জওহর বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাতে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপালকে জামায়াতের স্মারকলিপি

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা

রামপুরের মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন ভাঙার নির্দেশের ওপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ চেয়ে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জামায়াত-এ-ইসলামী হিন্দ (জেআইএইচ)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

এর আগে রামপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (আরডিএ) কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়টি ভাঙার নির্দেশ জারির পর জেআইএইচ-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে। প্রতিনিধিদলটি আজম খানের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথেও সাক্ষাৎ করে।

জামায়াত-এ-ইসলামী হিন্দের প্রধান দাবিগুলো হলো:

ভাঙার নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ: আগামী ৩০ জুলাই ভবন ভাঙার সময়সীমা শেষ হতে চলায় এর ওপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ দাবি করেছে সংগঠনটি। ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভেঙে ফেলা হলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত ধ্বংস হয়ে যাবে।

রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ: হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানটির সাংবিধানিক চরিত্র বজায় রাখতে রাজ্যপালের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

বিচার বিভাগীয় নিষ্পত্তি: ভাঙার নির্দেশের বৈধতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ার সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুরাহা হয়, সেজন্য বিষয়টি আদালতে উত্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেআইএইচ প্রতিনিধিদল উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩,০০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যাদের অনেকেই আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং ফি-তে বিশেষ ছাড় পায়। ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হলে শিক্ষার্থীরা সংবিধানের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

প্রতিনিধিদলটি স্পষ্ট ভাষায় জানায়, “বিষয়টি কেবল ভবন বা স্থাপনা সংক্রান্ত নয়; এটি হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন। সরকারের উচিত ভবন ভাঙার পরিবর্তে এর বৈধকরণের মতো কার্যকর বিকল্প বিবেচনা করা।”

জামায়াত-এ-ইসলামী হিন্দের এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ শফি মাদানি ও মোহাম্মদ আহমদ, সহকারী সম্পাদক ইনাম-উর-রহমান, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের রাজ্য সভাপতি মাওলানা জমির-উল-হাসান ফালাহি, রামপুরের সভাপতি মাওলানা আবদুস সালাম বাস্তাবি এবং প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ খালিক আহমেদ।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন